আমন ধান

ধানের পোকা দমনে ভেষজ কীটনাশক

বোরো ধানের মাঝরা পোকা,পামরি পোকা, গান্ধী পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, শীষকাটা লেদা পোকা, বাদামি গাছ ফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা ক্ষতি করে বেশি। এসব পোকা দমনে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে সচরাচর ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক কীটনাশক। পরিবেশের ক্ষতি এড়িয়ে বরং পরিবেশের জন্য উপকারী ও অর্থের অপচয় রোধ করে ভেষজ পদ্ধতিতে তৈরি কীটনাশক প্রয়োগ করাই ভালো।

ধানের পোকামাকড়ের ধরণ

মাজরা পোকা: মাজরা পোকার আক্রমণে ধানগাছের আক্রান্ত অংশ থেকে গাছের ওপরের ও নিচের অংশ আলাদা হয়ে যায়, ডগা মরে যায়। ধানের ফুল আসার পর আক্রমণ করলে সম্পূর্ণ শীষ সাদা হয়ে যায়।

পামরি পোকা: পামরি পোকা পাতার ওপরের সবুজ অংশ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। পাতা সাদা হয়। খাওয়া পাতা শুকিয়ে মারা যায়।

গান্ধী পোকা: ধানে ফুল আসার সময় আক্রমণ করে ধান পাকা পর্যন্ত গান্ধী পোকা ক্ষতি করে। আক্রান্ত ধানগাছের ধানের দানা শুকিয়ে চিটা হয়।

সবুজ পাতাফড়িং: সবুজ পাতা ফড়িং পাতা ও খোলের সবুজ অংশ থেকে রস চুষে খায়। আক্রান্ত পাতা প্রথমে হলদে হয় এবং পরে বাদামি রঙে ছেয়ে যায়।

লেদা পোকা: এই পোকাগুলো পাতা কুড়েঁ কুড়েঁ খায়। এমনকি আক্রান্ত সব পাতা ও ডগা এবং কাগু খেয়ে ফেলে। শীষ কাটা লেদা পোকা আধা-পাকা ধানের শীষ কেটে দেয়। ধানের ফলন এরা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।

ধানের ফড়িং: বাদামি গাছ ফড়িং উচ্চফলনশীল জাতের ধানগাছের গোড়ায় আক্রমণ করে কাগু থেকে রস চুষে খায়। আক্রান্ত গাছকে ফড়িং হলদে করে দেয়। আক্রান্ত গাছের শীষ বের হলেও ধানের দানা হয় না।

পাতামোড়ানো পোকা: কচি পাতাকে আক্রমণ করে মুড়িয়ে দেওয়াই হল পাতা মোড়ানো পোকার কাজ। মোড়ানো পাতার ভেতর থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে এ পোকা। আক্রান্ত পোকা মাকড়সার জালের মতো তন্ত্র দিয়ে আটকানো থাকে।

ভেষজ উপায়ে কীটনাশক তৈরী ও পোকাদমন

মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা দমনের জন্য সন্ধ্যার পর ১৫০ সেমি লম্বা লাঠির মাথায় বৈদ্যুতিক বাতি বা হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে রেখে তার নিচে কেরোসিন মিশ্রিত পানির পাত্র রেখে দিলে পোকাগুলো আলোয় এসে ওড়াউড়ির এক পর্যয়ে পাত্রে পড়ে মারা যায়।

এছাড়া ৩৩ শতাংশের প্রতি বিঘা জমিতে ২০ কেজি তামাকের ডাঁটা পাঁচ সেমি পানির নিচে পুতে রেখে দিলেও পোকা মারা যাবে।

লেদা পোকা, শীষ কাটা লেদা পোকা, পামরি পোকা ও গান্ধী পোকা দমনের জন্য কেরোসিন তেলে রশি ভিজিয়ে পোকা আক্রান্ত ধান ক্ষেতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত আড়াআড়ি করে টেনে দিলে এসব পোকা দমর করা যায়। এছাড়া দুই লিটার পানিতে ২৫০ গ্রাম কাপড় কাচা সাবান (টুকরো করা) মিশিয়ে গরম করে নিতে হবে। সাবান পানিতে গলে না যাওয়া পর্যন্ত গরম করতে হবে। গলে যাওয়া সাবান মেশানো পানির সঙ্গে চার লিটার কেরোসিন মিশিয়ে পাঁচ-ছয় মিনিট পর্যন্ত খুব করে নাড়াতে হবে। এই পানির সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ ভাগ পানি মিশিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করে পোকা দমন করা যায়। ফড়িং পোকাগুলোও এ প্রক্রিয়ায় দমন করা যায়।

ধানের ফড়িং পোকা দমনের জন্য ২৫০ গ্রাম চন্দ্রমল্লিকা ফুল ছোট ছোট টুকরো করে দুই লিটার পানিতে ১০ থেকে ১৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পড়ে কাপড় দিয়ে ছেঁকে সেই পানি আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করে ফড়িং পোকা দমন করা যাবে।

এছাড়া সব ধরনের পোকা দমনের জন্য প্রয়োজনমতো নিমপাতা, রসুন,পেঁয়াজ, আদা, পুঁদিনা ও তামাক পানিতে নিয়ে সেদ্ধ করে ঠান্ডা করতে হবে। ঠান্ডা পানি কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করলেও সুফল পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদক: সিদ্দিকুর রহমান শাহীন,প্রভাষক,কৃষিশিক্ষা
নাওডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম।
এগ্রোবাংলা ডটকম