বরবটি

বরবটির কয়েকটি রোগ ও প্রতিকার

সুস্বাদু শীতকালীন সবজি বরবটি। এখনই এ সবজি চাষের উপযোগী সময়। আর চাষাবাদের আগে আপনাকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং জেনে নিতে হবে এর চাষপদ্ধতি। রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে ফলন ঘরে না তোলা পর্যন্ত। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের কয়েকটি প্রজাতির বরবটি লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে কেগর নাটকি জাতের বরবটি অন্যতম। এ গাছগুলো দু-তিন মিটার পর্যন্ত উপরের দিকে লতিয়ে ওঠতে পারে। উপরদিকে ওঠার সময় গাছ বাউনির সঙ্গে পেঁচিয়ে ওঠে। এর পাতাগুলো গাঢ় সবুজ, ফুলগুলো বেগুনি আভাযুক্ত সাদা আকৃতির হয়। বরবটি সবুজ এবং সামান্য বাঁকানো এবং লম্বায় ৬০-৭৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। আর এ গাছকে রক্ষা করতে আপনাকে বিষয়গুলো প্রয়োগ করতে হবে।

জাবপোকা দমন:
জাবপোকা দলবদ্ধভাবে গাছের কঁচিপাতা, ডগা, ফুল ও ফলের বোঁটা এবং ফলের রস চুষে খেয়ে ক্ষতি করে। আক্রমণের ফলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ ফুল দিতে পারে না। অনেক সময় ফুলের কুঁড়ি ও কঁচি ফল ঝরে পড়ে যায়। জাবপোকা মোজাইক ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করলেও খুব সাবধানে এ পোকা বিতাড়িত করতে হবে।

বিছাপোকা:
বিছাপোকা বরবটি গাছের পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। বিছার আক্রমণে পাতার শিরাগুলো শুধু থেকে যায়, গাছ বাড়তে বাধা সৃষ্টি করে এবং ফলন কম হয়।

শিমের মাছি:
শিমের মাছি আক্রমণের ফলে গাছ বাড়তে পারে না, হলুদ রঙের হয়ে পড়ে। মাটির সামান্য ওপরে গাছের কা- মোটা হয়ে যায়। গাছ লম্বালম্বি কাটলে কান্ডের ভেতর শুককীট অথবা মূককীট দেখা যায়। আক্রান্ত হয়ে পরে গাছগুলো মরে যায়।

থ্রিপস:
এ পোকা পূর্ণাঙ্গ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় জাবপোকার মতো গাছের কঁচিপাতার রস চুষে খেয়ে গাছকে কঙ্কালসার করে ফেলে। আক্রমণের ফলে ফুলগুলো আস্তে আস্তে ঝরে পড়ে।

ফলের মাজরা পোকা:
পোকার কীড়া বরবটি গাছের কা-, মুকুল এবং ফল ছিদ্র করে নষ্ট করে দেয়। কীড়া আক্রান্ত ফলের বীজ ও শাঁস খেয়ে ক্ষতি করে। আক্রান্ত ফল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

নেতিয়ে পড়া রোগ দমন:
বীজ বপনের পর থেকে চারা অবস্থায় এ রোগের আক্রমণ হয়। এ রোগের আক্রমণে আক্রান্ত বীজ পচে যায়। চারার গোড়া চিকন, লিকলিকে হয়ে ধসে পড়ে ও গাছ মারা যায়।

পাউডারি মিলডিউ:
এ রোগ হলে পাতা ও গাছের গায়ে সাদা পাউডারের মতো আবরণ দেখা যায়। আক্রমণের মাত্রা খুব বেশি হলে গাছ সবুজ হয়ে মারা যায়।

হলুদ মোজাইক:
পাতায় হলদে সবুজের নকশা দেখা যায়। পরে ধীরে ধীরে পাতা হলদে হয়ে যায়। পাতার আকারের বিকৃতি ঘটে এবং আয়তনে ছোট হয়। আক্রান্ত গাছগুলোর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফলে গাছ ছোট হয়, ফল কম ধরে এবং শুটিতে বীজের সংখ্যা কম থাকে।

অ্যানথ্রাকনোজ:
রোগের জীবাণু প্রথমে পাতায় আক্রমণ করে। পাতায় বিভিন্ন আকারের দাগ পড়ে, স্বাভাবিক অবস্থায় পাতার ক্ষতি হয় সীমিত। পাতা থেকে ফলে আক্রমণ হয়। কঁচি অবস্থায় আক্রমণ হলে গোটা ফলটির ক্ষতি হতে পারে। আক্রমণ দেরিতে হলে ফল ছোট হয় এবং পচে যায়। <

শিকড় পচা বা গোড়া পচা:
এ রোগ চারা অবস্থা থেকে গাছের পরিণত অবস্থা পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। এ রোগের আক্রমণে আক্রান্ত চারা গাছের মাটির সংলগ্ন অংশ পচে যায়। পরিণত গাছের মাটির সংলগ্ন অংশ কালো বা গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করে।
লেখক: মো. ফখরুদ্দীন
এগ্রোবাংলা ডটকম