agrobangla

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দেশের উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় চাষাবাদের জন্য ধানের দু’টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাত দু’টি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক ও বিনা’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম জানান, উদ্ভাবিত জাত দু’টি বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী লবণসহিষ্ঞু ধানের জাত। বিগত দিনে উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের জন্য ব্রিধান৪০ ও ব্রিধান৪১ এবং বোরো মৌসুমের জন্য ব্রিধান৪৭-এর লবণসহিষ্ঞুতা অনেক কম। কারণ জমিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্রিধান ৪০, ৪১ ও ৪৭ জাতগুলোর ফলন ব্যাপক মাত্রায় কমে যায়। কিন্তু বিনা উদ্ভাবিত জাত দু’টি অপেক্ষাকৃত বেশি মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং ফলনও আশানুরূপ। ৮ন্ধ১০ ডেসি সিমেন/মিটার লবণাক্ত জমিতে হেক্টরপ্রতি ফলন সাড়ে চার থেকে পাঁচ টন এবং স্বাভাবিক জমিতে সাড়ে ছয় থেকে সাত টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। জাত দু’টি আলোক অসংবেদনশীল হওয়ায় বোরো ও আমন উভয় মৌসুমে চাষের উপযোগী। বোরো মৌসুমে ১৩০-১৩৫ দিনে এবং আমন মৌসুমে ১২০-১২৫ দিনে পাকে। জাত দু’টিতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। জাত দু’টির পাতার রঙ গাঢ় সবুজ, কাণ্ড, পাতা ও শীষ খুব শক্ত। ঝড়ো বাতাসেও ঢলে পড়ে না। পরিপক্ব অবস্খায় ধানের শীষ ঝরে পড়ে না, পাকা ধানের রঙ স্বাভাবিক সোনালি রঙের।

ড. মির্জা জানান, বর্তমানে ১০ লাখ হেক্টর জমিতে ৪-২০ ডেসি সিমেন/মিটার লবণাক্ততার কারণে বোরো ধান চাষের আওতায় আনা যাচ্ছে না। বিনা উদ্ভাবিত নতুন প্রস্তাবিত জাত দু’টি অবমুক্ত করা হলে শতকরা ৩০ ভাগ অর্থাৎ তিন লাখ হেক্টর জমি ধান চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং লবণাক্ত এলাকায় এ জাত দু’টির গড় ফলন প্রায় পাঁচ টন, যা চালে হেক্টরপ্রতি সাড়ে তিন টন পাওয়া যাবে। এ হিসাবে প্রায় ১০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এ ছাড়া বর্তমানে মধ্যম লবণ মাত্রায় প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এসব এলাকায় লবণাক্ততার কারণে গড়ে প্রায় হেক্টরপ্রতি দেড় থেকে দুই টন ধান উৎপাদিত হয়। কিন্তু এসব জমিতে বিনা উদ্ভাবিত ওই জাত দু’টি চাষ করলে হেক্টরপ্রতি গড়ে পাঁচ টনেরও বেশি ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। এ ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ধান উৎপাদিত হবে। শুধু সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার লবণাক্ত এলাকায় অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। লবণাক্ত এলাকা ছাড়াও বৃহত্তর বরিশাল, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম জেলার লবণাক্ত এলাকায় এ প্রস্তাবিত জাতের ধান চাষ করলে সার্বিকভাবে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ টন চাল উৎপাদন করা সম্ভব, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নব দিগন্তের সূচনা করবে। ড. মির্জা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে দু’টি জাতের দুই টন বীজ উৎপাদিত হতে পারে। অধিক বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে এবং চাষিপর্যায়ে বিতরণের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএডিসি) জাত দু’টির বীজ সরবরাহ করা হবে। নতুন জাত দু’টিকে ‘বিনাধান-৮’ ও ‘বিনাধান-৯’ নামে ছাড়করণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
লেখক: ড. নিয়াজ পাশা
তথ্যসূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত