agrobangla
×

Warning

Error loading component: com_finder,

বোরোধানের চারা রোপণের এখন ভরা মওসুম। চাষি ভাইয়েরা এখন ভীষণ ব্যস্ত বোরোধানের চারা রোপণে। সারা দেশের মতো খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরাও এখন বোরো চাষ নিয়ে

ফলন বাড়ানো এবং চাষের খরচ কমানোর জন্য লাগসই আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। প্রিয় চাষি ভাই, আপনি ইচ্ছে করলে বোরো মওসুমে ধান চাষের জন্য একটি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। প্রযুক্তিটির নাম লগো পদ্ধতি।

প্রতি বছর বোরোধান চাষে বাদামি গাছফড়িং (স্খানীয় চাষি ভাইদের কাছে কারেন্ট পোকা নামে পরিচিত) অনেক ক্ষতি করে। আপনি যদি লগো পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন তাহলে গাছফড়িংয়ের আক্রমণ প্রতিহত করে ভালো ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। প্রযুক্তিটি কিভাবে ব্যবহার করবেন সে ব্যাপারে স্খানীয় কৃষিকর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রশিক্ষণ নেয়া কৃষিকর্মকর্তা আপনাকে সেবা দিতে প্রস্তুত। কৃষিকর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে আপনার কাছে এগিয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু আপনি যদি অগ্রসর চাষি হয়ে থাকেন তাহলে নিজ উদ্যোগেই যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারেন।

এখন চলুন লগো পদ্ধতিতে কিভাবে ধানের চারা রোপণ করতে হয়, সে বিষয়ে জেনে নেয়া যাক।
বোরো মওসুমে ধানের চারা রোপণের সময় উত্তর-দক্ষিণ দিক মুখ করে চারা রোপণ করতে হবে। চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ৮ সেন্টিমিটার। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৮ সেন্টিমিটার রাখতে হবে।

আট থেকে ১০ লাইন ধানের চারা রোপণ করার পর এক লাইন ফাঁকা রাখতে হবে। ধানের জমি সমতল রাখতে হবে। অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। বাদামি গাছফড়িং বা কারেন্ট পোকা তাড়াতাড়ি বংশ বিস্তার করে। ঘন করে ধানের চারা রোপণ করলে ধানক্ষেতে আলো-বাতাস সহজে প্রবেশ করতে পারে না। ধানগাছের গোড়ায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে না পারলে, অতিরিক্ত ইউরিয়া সার জমিতে ব্যবহার করলে এ ধরনের পরিবেশে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ বেশি হয়। ধানের জমি ওপর থেকে পুড়ে গেছে মনে হয়। একে হপার বার্ন বলে।

সুতরাং এখনই বোরো ধানের চারা রোপণের সময় লগো পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
লেখক: অসিত কুমার সাহা কৃষিবিদ
এগ্রোবাংলা