agrobangla

হাওর বা বাঁওড় শব্দ থেকে বোরো শব্দের উৎপত্তি। বোরো ধানগুলো এককালে আমাদের দেশে হাওর ও বাঁওড় এলাকায় চাষ হতো। বর্তমানে সেচের বিস্তার হওয়ায় অন্যান্য উঁচু জমিতেও এর চাষ হচ্ছে। বোরো মওসুমে ধানগাছ প্রচুর সূর্যকিরণ পায়, সার বেশি গ্রহণ করে অথচ গাছ ও পাতা হেলে পড়ে না, ফলবান কুশি বেশি হয় এবং অধিক ফলন পাওয়া যায়। তাই এ মওসুমে আধুনিক জাতের বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। বোরো ধানের ভালো ফলন পেতে হলে জমি তৈরি, সুষম মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং সময়মতো

চারা রোপণ করে অন্যান্য পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে।
জমি তৈরি : ধানের চারা রোপণের জন্য জমি কাদাময় করে উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। এ জন্য জমিতে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে মাটি একটু নরম হলে ১০-১৫ সেন্টিমিটার গভীর করে সোজাসুজি ও আড়াআড়িভাবে চার-পাঁচটি চাষ ও মই দিতে হবে যেন মাটি থকথকে কাদাময় হয়। প্রথম চাষের পর অন্তত সাত দিন জমিতে পানি আটকে রাখা প্রয়োজন। এর ফলে জমির আগাছা, খড় ইত্যাদি পচনের ফলে গাছের খাদ্য বিশেষ করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রোজেন জমিতে বৃদ্ধি পায়।

মূল সার প্রয়োগ : বোরো মওসুমে ধানের আশানুরূপ ফলন পেতে জমিতে পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা দরকার। সারণিতে বোরো ধানের জাতভিত্তিক সারের মাত্রা (ইউরিয়া ছাড়া) উল্লেখ করা হলো।

জাতভেদে বোরো ধানের সারের পরিমাণ (কেজি/হেক্টরে)
চারা রোপণ : বীজতলা থেকে ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা সাবধানে তুলে এনে সারি করে রোপণ করতে হবে। এ মওসুমে সারি থেকে সারি ২০-২৫ সেন্টিমিটার এবং চারা থেকে চারা ১৫-২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে লাগাতে হবে। জমির উর্বরতা ও জাতের কুশি ছাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে এ দূরত্ব কম বা বেশি হতে পারে। প্রতি গোছায় দু-তিনটি সুস্থ ও সবল চারা ২.৫-৩.৫ সেন্টিমিটার গভীরে রোপণ করতে হবে। খুব গভীরে চারা রোপণ করা ঠিক নয়। এতে কুশি গজাতে দেরি হয়। কুশি ও ছড়া কম হয়। কম গভীরে রোপণ করলে তাড়াতাড়ি কুশি গজায়, কুশি ও ছড়া বেশি হয় ও ফলন বাড়ে। তাই কম গভীরে চারা রোপণের জন্য রোপণের সময় জমিতে ১.২৫ সেন্টিমিটারের মতো ছিপছিপে পানি রাখা ভালো। কাদাময় অবস্থায় রোপণের গভীরতা ঠিক রাখার সুবিধা হয়। রোপণের পর জমির এক কোনায় কিছু বাড়তি চারা রেখে দিতে হয়। এতে রোপণের ১০-১৫ দিন পরে যেসব জায়গায় চারা মরে যায় সেখানে বাড়তি চারা থেকে শূন্যস্থান পূরণ করা যায়। ফলে জমিতে একই বয়সের চারা রোপণ করা হয়।

সেচব্যবস্থা : গাছের প্রয়োজনমাফিক সেচ দিলে সেচের পানির পূর্ণ ব্যবহার হয়। বোরো ধানের জমিতে সব সময় পানি ধরে রাখতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বোরো মওসুমে সাধারণত ধানের সারা জীবনকালে মোট ১২০ সেন্টিমিটার পানির প্রয়োজন। তবে কাইচ থোড় আসার সময় থেকে ধানের দুধ হওয়া পর্যন্ত পানির চাহিদা দ্বিগুণ হয়। এ সময় জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হয়। কারণ থোড় ও ফুল অবস্থায় মাটিতে রস না থাকলে ফলন কমে যায়। রোপণের পর কোন অবস্থায় কতটুকু পানি দরকার তা নিম্নে দেয়া হলো।

ধান কাটার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি বের করে দিতে হবে। এ ছাড়া জমি শুকিয়ে নিতে হবে। এতে মাটিতে জমে থাকা দূষিত বাতাস বের হয়ে যাবে এবং চারাগুলো মাটির জৈব পদার্থ থেকে সহজে খাবার গ্রহণ করতে পারবে।
লেখক: মো: আবদুর রহমান