agrobangla

প্রকৃতিতে আমাদের অগোচরে কত গাছগাছড়াই তো ছড়িয়ে আছে, এর কটাকেই বা আমরা চিনি।

জংলি উদ্ভিদ হিসেবে আধুনিক সমাজে এগুলোর অনেকটাই অপাঙক্তেয়। অথচ এসব উদ্ভিদের প্রায় সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে ভেষজগুণে সমৃদ্ধ।

থানকুনি গাছ বা থানকুনি পাতা তেমনই এক ধরণের উদ্ভিদ। ভেষজগুণে সমৃদ্ধ থানকুনির রসে রয়েছে শরীরের জন্য প্রচুর উপকারী খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় পদার্থ।

থানকুনি পাতার রস নিয়মিত সেবনে ত্বকের সতেজতা বৃদ্ধি পায়। রূপ সচেতন নারীরা ইচ্ছে করলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। দেখবেন ধীরে ধীরে উপকার পাচ্ছেন।

এছাড়া ঘন ঘন জ্বর বা আমাশয় থেকে রক্ষা পেতেও খেতে পারেন থানকুনির রস। উপকার পাবেন সুনিশ্চিত ।
আমাদের অনেকেরই মুখে দেখা যায় ঘায়ের সমস্যা। থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলি করুন নিয়মিত। দেখবেন মুখে ঘায়ের প্রকোপ কমে গেছে অনেকখানিই।

বিভিন্ন কারণেই অকালে চুল ঝড়ে যেতে পারে। অনেক ওষুধ পথ্য খেয়েও দেখা যাচ্ছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। চেষ্টা করে দেখুন থানকুনি পাতার রস।

পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খান পাঁচ-ছয় ফোটা থানকুনির রস। দেখবেন ধীরে ধীরে উপকার পাচ্ছেন, কমে যাচ্ছে চুল পড়ার হার।

ছেলেবেলায় যেসব শিশুরই কথা জড়িয়ে যায়, সেসব শিশুর উদ্বিগ্ন মায়েদের দুশ্চিন্তা অবসানে রয়েছে থানকুনি গাছ। প্রতিদিন এক চামচ করে থানকুনি পাতার রস গরম করে শিশুকে খাওয়ান, দেখবেন ধীরে ধীরে কথার অস্পষ্টতা কেটে যাচ্ছে।

আবার আবহাওয়ার তারতম্য হলে সর্দি গরমিতে ভোগেন অনেকেই। একটুতেই ঠান্ডা লেগে যায় তাদের। তাদের জন্যও সমাধান রয়েছে থানকুনি পাতার রসেই।

২০-২৫ ফোটা থানকুনির রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খান, দেখবেন ঠাণ্ডা লাগার অস্বস্তিকর অনুভূতি দূর হয়েছে অনেকখানিই।

এখন প্রশ্ন হলো ব্যস্ত নগরজীবনে থানকুনি পাতা খুঁজে পাবেন কোথায়। গ্রামে অবশ্য থানকুনি গাছের অভাব নেই। সহজেই দেখা মেলে ঝোপে জঙ্গলে। শহরাঞ্চলে থানকুনির খোঁজ পাওয়া একটু কঠিনই বটে।

তবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কাঁচা বাজারগুলোতে একটু খোঁজ করলেই মিলবে থানকুনি পাতা। ফ্রিজেও কয়েকদিন রাখতে পারবেন থানকুনি পাতা।

অথবা যারা আরও একটু সচেতন তারা ইচ্ছে করলেই বাড়ির ছাদে অথবা বারান্দার এক কোনায় টবের ভেতরই লাগাতে পারেন থানকুনি গাছ। চারা পেতেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না। যে কোনো নার্সারিতেই একটু খুঁজলেই মিলবে থানকুনি গাছ।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪