agrobangla

অ্যানথ্রকনোজ এক প্রকার ছত্রাক রোগ। সাধারণত শিম চাষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে হয়ে থাকে। এ রোগের আক্রমণে শিমের পাতা ও ফলের গায়ে কিছু অসম আকৃতির গোল ভেজা দাগ পড়ে। তা কালচে রঙের হয় ও পাতার কিনার দিক ঝলসে যায়।

অ্যানথ্রকনোজ রোগ মূলত বীজবাহিত রোগ। এ রোগের হাত থেকে শিম চাষকে বাঁচাতে হলে বীজ রোপণের আগে কার্বেন্ডাজিম ৫০ ডব্ল্যুপি, ডেলিজম, কারজিম, অগ্নি, সেনজিম, কবিস্টিন জেকে স্টিন প্রভৃতি ওষুধের মধ্যে যেকোনো একটি দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। এ ওষুধগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি প্রতি এক কেজি বীজের জন্য তিন গ্রাম ব্যবহার করতে হবে। অ্যানথ্রকনোজ আক্রান্ত শিম চাষে ডায়াথিন এম ৪৫, ইন্দোফিল এম ৪৫, স্টারজেম, ম্যানজেট, লুজেম ৪৫, ইউথেন এম ৪৫ ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটি ওষুধ প্রতি লিটার পানি তিন গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। অথবা ক্যাপটান ৫০ ডব্ল্যুপি, ক্যাপটান, ক্যাপটাফ ডেল্টন ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটি ওষুধ প্রতি লিটার পানি দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

পাউডার : পাউডার শিম চাষের ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগে শিম চাষ আক্রান্ত হলে পুরনো পাতার ওপর গোলাকৃতি পাউডারের মতো দাগ পড়ে। ধীরে ধীরে তা সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত পাতা ঝরে পড়ে। এ রোগের আক্রমণ থেকে শিম চাষ বাঁচাতে প্রতিকারস্বরূপ সালফার ৮০৬ ডব্ল্যুপি, সালফেকস, সালটাফ ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটি প্রতি দুই লিটার পানি মিশিয়ে রোগের আক্রমণের প্রথম অবস্থায় সাত দিন পর পর দুইবার করে স্প্রে করে দিতে হবে।

ঢলে পড়া রোগ : ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগে গাছের পাতা-ডগা কুঁকড়ে যায়। গুঁটি বাড়ে না, গাছ ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ে। এ রোগের কোনো প্রতিকার নেই। তবে এ রোগের আক্রমণ যাতে না হয় সে জন্য জমিতে বীজ রোপণের আগে বীজ শোধন করতে হবে। তা ছাড়া রোগ সহনশীল জাতের বীজ রোপণ করতে হবে।

কুটে : বীজবাহিত ভাইরাস রোগ হলো কুটে। এটা শিমের মারাত্মক একটি রোগ। থ্রিপস বা জাবপোকা এ রোগ ছড়িয়ে থাকে। শিম চাষে কুটে রোগের বাহক পোকা মারার জন্য মিথাইল ডিমিটন ২৫ ইসি, মেটামিসটনস, হাইমনস ইত্যাদির যেকোনো একটি প্রতি এক লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে।

শিম পোকা : শিম পোকা অনেকটা গোবরের পোকার মতো দেখতে। এদের গায়ের রঙ তামাটে, শক্ত পাখার ওপরে ১৬টি কালো দাগ থাকে। পোকা ও শূককীট দুই-ই শিম গাছের প্রায় সর্বত্র আক্রমণ চালায় এবং গাছ খেয়ে নষ্ট করে দেয়। শিম চাষ থেকে এ পোকা দূর করতে ম্যালাথিয়ন ৫০ইসি সাইথিয়ন, স্টারম্যাল, এলথিন, ম্যালটক্স ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটি প্রতি এক লিটার পানি দুই মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

জাবপোকা বা চোষি পোকা : জাবপোকা, থ্রিপস বা চোষি পোকা শিমের আরো দু’টি বড় শত্রু। শিমজাতীয় শস্যে তারা আক্রমণ চালায় এবং প্রচণ্ড তি করে। ছোট ছোট সবুজ রঙের জাবপোকা দল বেঁধে গাছের ডগা, কাণ্ড, ফুল-ফল থেকে রস চুষে খায়। পাতা ক্রমে হলদে হয়ে যায়। পরে শুকিয়ে ঝরে পড়ে। পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যান্ডো সালফার ৩৫ ইসি, যেমন-থায়োডান, থায়োনেল, থায়োফিল, অ্যান্ডোশেল, অ্যান্ডোস্টার, সেনফান ইত্যাদি ওষুধের মধ্যে যেকোনো একটি প্রতি এক লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। অথবা ডাইমেথয়েট ৩০ এফসি, রগর, তারা ৯০৯, প্যারিরিমেট ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। অথবা মিথাইল ডিমিটন ২৫ ইসি মেটাসিসটক, হাইকস ইত্যাদির যেকোনো একটি প্রতি এক লিটার পানিতে ২ মি.লি. মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া ফসফাসিডন ৮৫ এসএল ডিমেক্রন, সুসিডন রিলন ইত্যাদির যেকোনো একটি ওষুধপ্রতি এক লিটার পানি ০.৭৫ মিলিগ্রাম হারে মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করা যায়। পোকা দমনের জন্য সব রকমের ব্যবস্থা হাতের কাছে মজুদ রাখতে হবে।
লেখক:আফতাব চৌধুরী